চলমান সংবাদ

বিএনপি নির্বাচনে জয়ী হলে তাদের সরকার প্রধান কে হবেন, সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার

শেখ হাসিনা।
শেখ হাসিনা (ফাইল ফটো)

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, একটি দল নির্বাচনে অংশ নিতে আর মানুষের বিশ্বাস ও আস্থা অর্জন করতে হলে দেখাতে হবে যে সেই দল নির্বাচনে জয়ী হলে কে হবে তাদের সরকার প্রধান। বিএনপি যে অংশ নেবে আগামী নির্বাচনে তারা কাকে দেখাবে?

এক সংবাদ সম্মেলনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ সম্পর্কিত এক প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে তিনি বলেন “দলটির নেতৃত্ব কার হাতে এবং কে নেতা? ওরা ইলেকশন করবে কী নিয়ে, পূঁজি কী? বিএনপির কি একটাও যোগ্য নেতা নেই যাকে তারা চেয়ারম্যান করতে পারে”?

“ওদের জন্য কান্নাকাটি করে লাভ নেই। ওরা ইলেকশন করবে কাকে নিয়ে, আমাকে বলতে পারবেন?” পাল্টা প্রশ্ন করেন তিনি।

ঢাকার কাছে মাওয়ায় পদ্মা নদীর উপর নির্মিত সেতু উদ্বোধন উপলক্ষে এ সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়েছিলো। তবে এতে চলমান বন্যা পরিস্থিতি এবং আগামী নির্বাচন নিয়েও কথা বলেন তিনি।

আগামী শনিবার প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অবকাঠামো প্রকল্প হিসেবে পদ্মা সেতু উদ্বোধন করবেন বলে কথা রয়েছে।

কংক্রিট ও স্টিলের কাঠামোতে তৈরি দ্বিতল এ সেতুর উপরের অংশ দিয়ে গাড়ি ও নিচতলা দিয়ে রেল চলাচল করবে। সেতুটি দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার সাথে রাজধানী ঢাকার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ তৈরি করেছে।

শনিবার সেতুর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।
শনিবার ২৫শে জুন সেতুর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া ও দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন যে একজন দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামী যাকে তিনি নির্বাহী আদেশে বয়স বিবেচনায় বাসায় থাকার সুযোগ দিয়েছেন, অন্যজন দশ ট্রাক অস্ত্র মামলা ও একুশে অগাস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় সাজাপ্রাপ্ত।

আগের দুটি নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হয়নি- এমন অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন যে বিএনপি নিজেই নির্বাচন থেকে সরে গিয়েছিলো।

প্রধানমন্ত্রী বলেন “তারা যে ইলেকশন করবে কাকে দেখাবে (নেতা হিসেবে)? সাজাপ্রাপ্ত পলাতককে? সে তো এদেশের নাগরিকত্ব বাতিল করে ব্রিটিশ নাগরিক হয়ে বসে আছে। সাজাপ্রাপ্ত হয়ে ব্রিটিশ নাগরিক কিভাবে হলো? এ নিয়ে তারা কিভাবে ইলেকশন করবে? সেটিই বড় কথা। এখানে গণতন্ত্রের দোষ কোথায়”।

বিএনপি ও জাতীয় পার্টিকে সামরিক একনায়কদের হাতে একই কায়দায় প্রতিষ্ঠিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর বাইরে বাম দলগুলো ক্ষুদ্র হতে হতে বর্তমান অবস্থায়এসে দাঁড়িয়েছে।

“তাহলে আর আছে কে? ভালো শক্তিশালী দল দেন। মাঠেই দেখা হবে-জনগণ যাকে চায়। আমি তো সুযোগ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তো হতে চাইনি কখনো। জনগণের ভোট কেড়ে নিয়ে ক্ষমতায় থাকতে চাই না, সেটা থাকবো না”।

সূত্রঃ বিবিসি বাংলা